স্ক্যাবিস: শিশু থেকে বড় সকলের জন্য সতর্কবার্তা

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ০১:০৯ পিএম

ডা. মো. ফাহিম ফয়সাল

স্ক্যাবিস একটি অতি সাধারণ চর্মরোগ। শিশু থেকে বড় সবাই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণ হলেও এই রোগ থেকে তৈরি হতে পারে জটিলতা। আবার অনেকে এলার্জি মনে করে, অথবা সচেতনতার অভাবে ভুলভাল ওষুধ খেয়ে জটিল সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। তাই আজকে সংক্ষেপে জানাবো স্ক্যাবিস সম্পর্কে।

স্ক্যাবিস মূলত Sarcoptes scabiei var. hominis নামের এক ধরনের পরজীবি দ্বারা হয়ে থাকে। পরজীবীটি ত্বকের উপরের স্তরে সুড়ঙ্গ করে ঢুকে পড়ে। সেখানে পুরুষ পরজীবী স্ত্রী পরজীবীর সাথে মিলিত হয়। এরপর ত্বকের উপরের স্তরে গিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে স্ত্রী পরজীবী ডিম পাড়ে ও বাচ্চা উৎপাদন করে। এরপর এই সাইকেল চলতে থাকে ও বংশবৃদ্ধি হতে থাকে। এই প্রক্রিয়া রাতে বেশি সচল হওয়ার কারণে রাতে অনেক বেশি চুলকানি হয়।


কাদের বেশি হয়:
স্ক্যাবিস যেকোন বয়সে হতে পারে। স্ক্যাবিস সাধারণত কম বয়সী ছেলেমেয়ে যারা বোর্ডিং বা স্কুল মাদ্রাসাতে একসাথে গাদাগাদি অবস্থায় থাকে তাদের বেশি হয় । রোগটি মারাত্বক ছোঁয়াচে। বাচ্চার থেকে বাসার সবার বা একজন থেকে আরেকজনের খুব সহজে হতে পারে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদেরও স্ক্যাবিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

রোগের লক্ষণ:
স্ক্যাবিস এর প্রধান লক্ষণ প্রচণ্ড চুলকানি। পুরো শরীরে অসহ্য রকমের চুলকানি হয়। চুলকানি রাতে সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করে।

 

এছাড়া চামড়ার উপর সুতার মতো Burrow (এক ধরনের আঁকাবাকা সুতার মতো রেখা) দেখা যায়। মূলত আঙ্গুলের ফাঁক, হাত, আঙুল, বাহু, নাভির পাশে, তলপেটসহ (বেল্ট লাইন) যেকোনো জায়গায় এই ঘা দেখা যেতে পারে।

 

জটিলতা:
স্ক্যাবিস কে অবহেলা করলে বা অপচিকিৎসা করলে নানারকম জটিলতা হতে পারে। যেমন:
১. ত্বকে ঘা, ফোঁড়া, পুঁজ ও ক্ষত হওয়া।
২. ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন।
৩. চামড়া মোটা ও খসখসে হওয়া।
৪. কিডনির সমস্যা (Glomerulonephritis)
৫. ঘুমের সমস্যা ও অসস্তি।


চিকিৎসা:

স্ক্যাবিস সাধারণত পরীক্ষা ছাড়াই নির্ণয় করা যায়। কখনও আক্রান্ত ঘা থেকে চামড়া নিয়ে মাইক্রোস্কোপ দিয়ে পরীক্ষা করা যায়।

স্ক্যাবিস এর চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন স্কাবিসাইডাল লোশন ও ক্রিম পাওয়া যায়। সেগুলো স্বল্প সময়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। চুলকানির জন্য বিভিন্ন এন্টি-হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। প্রয়োজনে মুখে খাওয়ার ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। ইনফেকশন হলে এন্টিবায়োটিক ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। সব ক্ষেত্রেই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।

যেকোনো সরকারি হাসপাতালে বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে বা এমবিবিএস চিকিৎসকের কাছে এই রোগের সুচিকিৎসা পাওয়া সম্ভব।

সতর্কতা:


— কখনই স্ক্যাবিস কে অবহেলা করা উচিত না।

— ফার্মেসী বা হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে থেকে যত্রতত্র স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না। এতে রোগ আরো জটিল রূপ ধারণ করে ও অন্যান্য সমস্যা তৈরি হতে পারে।

— পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে ও কাপড় চোপড় ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

উপসংহার:

স্ক্যাবিস অতি পরিচিত ও ছোঁয়াচে একটি রোগ। সঠিক ও সময়মত চিকিৎসা করলে সহজেই রোগমুক্ত হওয়া যায়। তাই ত্বকের সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 

ডা. মো. ফাহিম ফয়সাল
সহকারী সার্জন
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
গোদাগাড়ী (প্রেমতলী), রাজশাহী

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com