ডাইরিয়া : শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে করণীয়
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
বাংলাদেশে শিশুদের অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি ও শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ডায়রিয়া বা উদরাময়। তথ্য ও উপাত্ত অনুসারে, বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ৫ বছরের নিচের শিশুদের শতকরা ৫ থেকে ১০ ভাগেরই ভর্তির কারণ ডায়রিয়া।
ডায়রিয়া বলতে বোঝায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি একটি বাচ্চা ৩ বারের অধিক পাতলা পায়খানা করে, সেটাতে রক্ত বা অন্য কিছু মিশ্রিত না থাকে। ডায়রিয়ার প্রধান কারণ হলো রোটা ভাইরাস। এছাড়া কলেরা, ই-কোলাই এবং ফাঙ্গাসও ডায়রিয়া ঘটাতে পারে। রোটা ভাইরাসের আক্রমণে বাচ্চা সাধারণত সবুজ বা হলুদ পায়খানা করে। কলেরা হলে চাল ধোয়া পানির মতো পায়খানা হয়। তবে যে কারণেই হোক না কেন, চিকিৎসা প্রায় একই থাকে। শিশুর ডায়রিয়া হলে বাচ্চার পরিবারের, বিশেষ করে মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডায়রিয়ায় শিশুমৃত্যুর মূলে হলো অতিরিক্ত পায়খানার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পানি ও লবণের (সোডিয়াম, পটাশিয়াম) ঘাটতি। তাই লবণ-পানির ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলে শিশুকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা যায়।
সঠিক চিকিৎসা:
বাচ্চা পায়খানা করলে খাবার স্যালাইন (ORS) খাওয়ানো প্রধান কাজ। স্যালাইন বানানোর নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ। ৫০০ মিলি পানিতে এক প্যাকেট স্যালাইন মেশাতে হবে। বাচ্চার বয়স ও ওজন অনুযায়ী খাওয়াতে হবে। মিশ্রণ গরম করা যাবে না। ১২ ঘন্টা পর মিশ্রণ ফেলে নতুন মিশ্রণ বানাতে হবে।
খাবার স্যালাইনের প্যাকেট না থাকলে ৫০০ মিলি পানিতে ১ মুঠ গুড় ও ১ চিমটি লবণ মেশাতে হবে।

কখন হাসপাতালে নিয়ে যাবেন:
বাচ্চা নেতিয়ে পড়বে, খেতে বা পান করতে চাইবে না, সব খাবার বমি করে ফেলবে, বা চোখ বসে যাবে।
একনাগাড়ে পায়খানা হলে, বমি বা জ্বর থাকলে বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত থাকলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কারণ তখন শিরায় স্যালাইন দেওয়া এবং অন্যান্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
যা করা যাবে না:
বেশিরভাগ ডায়রিয়ায় এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন নেই। অযথা এন্টিবায়োটিক প্রয়োগে কোনো উপকার হয় না, বরং এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে।
সচেতনতা ও সময়মত চিকিৎসা ডায়রিয়ায় মৃত্যুহার অনেক কমাতে পারে। বিশেষ করে মায়েদের ডায়রিয়া সম্পর্কে সচেতন ও শিক্ষিত করা এখন সময়ের দাবি।
ডা. মো. ফাহিম ফয়সাল
মেডিকেল অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গোদাগাড়ী (প্রেমতলী), রাজশাহী
আরও পড়ুন
স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পেলেন যারা
উৎপাদন কমানোর আগে ইরান দুই মাস পর্যন্ত তেল রপ্তানি বন্ধ রাখতে পারে, বলছেন বিশ্লেষকরা
গুলিবিদ্ধ সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ