গুলিবিদ্ধ সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
জয়নাল আবেদিন, পিতা: মৃত হাসেন আলী সরকার, জামালপুর জেলার জামালপুর সদর উপজেলার ১২নং তিতপল্লা ইউনিয়ন পরিষদের সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। প্রায় ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একজন একনিষ্ট কর্মী হিসাবে কাজ করে গেছেন। সৈরাচারী শেখ হাসিনার আমলে পরপর তিনবার অন্যায় ভাবে জেলে যান এবং বিভিন্ন রকম অস্বাভাবিক নির্যাতন করা হয় তার উপর।
গত ৫ই আগষ্টের মাস খানেক আগে দলীয় কর্মসূচির আওতায় বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয় জয়নাল আবেদিন। মিছিলটি শান্তিপূর্ণ ভাবে জামালপুর সদর কামালখান বাজার রোড হয়ে যাচ্ছিলো। স্থানীয় আওয়ামী নেতার নির্দেশে তৎকালীন পুলিশ বাহিনী অতি উৎসাহী হয়ে শান্তিপূর্ণ মিছিলে এলোপাতারি গুলি ও ছররা গুলি করে। এ সময় জয়নাল আবেদিন গুলিবিদ্ধ হন। তার মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ২৫ থেকে ৩০টির মত গুলি লাগে, মাথাতেই ১০ থেকে ১২টি ছররা গুলি লাগে। স্প্লিন্টার গুলো মাথার থেকে যায়।
জয়নাল আবেদিন অসুস্থ থাকাবস্থায় সৈরাচার বিরোধী ৫ই আগষ্টের জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন বলে জানান তার সহকর্মীরা।
সাময়িক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও অর্থের অভাবে সুচিকিৎসা করাতে পারেনি জয়নাল আবেদিন। সেসময় টানাটানি করে সংসার চালাতো তাই পুরোপুরি চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়নি জয়নাল আবেদিনের।
দীর্ঘদিন ধরে সেই স্প্লিন্টারগুলো মাথায় বহন করলেও সম্প্রতি তার শারিরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। বর্তমানে তিনি অর্থোপেডিক্স হাসপাতাল, শ্যামলী, ঢাকায় ভর্তি আছেন। জরুরী সার্জারির প্রয়োজন হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তার অবস্থা এখন খুবই আশঙ্কাজনক মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে বলে জানা গেছে। এমতাবস্থায় তার পরিবারের দুই মেয়ে স্ত্রীর কে নিবে।
এদিকে জয়নাল আবেদিনের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, দলীয়ভাবে তিনি কোন ধরনের আর্থিক বা চিকিৎসা সহায়তা পাননি । একজন ত্যাগী কর্মী হয়েও তার এমন অবস্থায় বিএনপির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার। দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না হলে তার জীবনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিয়য়ে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী, সহকর্মী ও তার পরিবার।