স্থানীয় সরকার নিয়ে বিএনপির ক্ষমতার অপব্যবহার: আসিফ মাহমুদ সজীব
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
আসিফ মাহমুদ তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক ভাবে সবক্ষেত্রে দলীয়করনের অবস্থা দেখে বলেন, বাংলাদেশে আমরা এখন এক গভীর রাজনৈতিক ভণ্ডামির সময় অতিক্রম করছি। যে দল গণতন্ত্রের বুলি আউড়িয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেই দলই আজ স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে জনগণের হাত থেকে সরিয়ে নিয়োগনির্ভর নিয়ন্ত্রণের পথে নিয়ে যাচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল, বাস্তবে আজ সেই স্বপ্নের বিপরীত এক রাজনৈতিক বাস্তবতা আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এর আগে ২৩ ফেব্রুয়ারি ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক বসানো হয়, আর ১৪–১৫ মার্চ আরও পাঁচটিতে নতুন প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে মোট ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক বসানো সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তাঁরা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বলছে, এসব পদে বিএনপির নেতারাই বড় অংশে জায়গা পেয়েছেন।
আরও বলেন, এখানেই আমাদের প্রধান উদ্বেগ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে সামনে না এনে, আগে প্রশাসনিক কাঠামো দখলে নেওয়ার এই প্রবণতা কেবল অস্থায়ী ব্যবস্থা বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না। কারণ একই সময়ে সরকার আবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর কথাও বলছে; যেমন মার্চের শুরুতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন জুলাই থেকে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যদি সত্যিই দ্রুত নির্বাচনের সদিচ্ছা থাকত, তবে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের বদলে দলীয় ঘনিষ্ঠ প্রশাসক বসানোর এই তৎপরতা কেন?
আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই প্রক্রিয়া শুধু স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে না; বরং স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার বলয় আগেভাগে গড়ে তোলার সুযোগও তৈরি করছে। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, প্রভাবের নেটওয়ার্ক, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সাংগঠনিক সুবিধা সব মিলিয়ে এটি ভবিষ্যৎ নির্বাচনী মাঠকে একপক্ষীয়ভাবে সাজিয়ে নেওয়ার, অর্থাৎ একধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিবেশ তৈরি করার আশঙ্কা জাগায়। গণতন্ত্রের ভাষা মুখে রেখে যদি নির্বাচনের আগে মাঠ, প্রতিষ্ঠান ও প্রভাববলয় নিজেদের অনুকূলে সাজানো হয়, তবে সেটি আর গণতন্ত্র থাকে না; সেটি হয়ে ওঠে নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধিত্বের ছদ্মবেশ।
মানুষ গণঅভ্যুত্থানে রাস্তায় নেমেছিল ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের জন্য, দলীয় নিয়ন্ত্রণের নতুন সংস্করণের জন্য নয়। মানুষ চেয়েছিল নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহিমূলক শাসন এবং জনগণের অংশগ্রহণ; কিন্তু বিএনপি এখন যে পথে হাঁটছে, তা সেই আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানাচ্ছে না, বরং ধীরে ধীরে তাকে প্রতিস্থাপন করছে নিয়োগ, নিয়ন্ত্রণ ও দলীয়করণের রাজনীতিতে।
তিনি বলেন, তাই এখনই সতর্ক হওয়া দরকার। কারণ ইতিহাস বারবার আমাদের শিখিয়েছে, গণতন্ত্র একদিনে ভেঙে পড়ে না; প্রথমে ভেঙে পড়ে তার স্থানীয় ভিত্তি, তারপর দুর্বল হয়ে যায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব, তারপর ক্ষমতা গুটিয়ে যায় একটি দলের হাতে। বিএনপি যদি সত্যিই নিজেদের আলাদা প্রমাণ করতে চাইত, তবে তাদের প্রথম কাজ হতো দ্রুত, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত যে বার্তা দিচ্ছে, তা হলো স্পষ্ট: ভোটের আগে নিয়ন্ত্রণ, জনগণের আগে দল, গণতন্ত্রের আগে ক্ষমতা।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের নামে নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে না; তাকে ফাঁপা করে দেয়। আর সেই ফাঁপা গণতন্ত্রই একসময় স্বৈরতন্ত্রের নতুন দরজা খুলে দেয়।
আরও পড়ুন
স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পেলেন যারা
উৎপাদন কমানোর আগে ইরান দুই মাস পর্যন্ত তেল রপ্তানি বন্ধ রাখতে পারে, বলছেন বিশ্লেষকরা
গুলিবিদ্ধ সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ