পলাতক হাসিনা ও কামালকে দেশে ফেরাতে ‘কনভিকশন ওয়ারেন্ট’ যাবে ইন্টারপোলে
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১২ এএম
জুলাই–আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম।
তামীম বলেন, পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানাভিত্তিক একটি রেড নোটিশের আবেদন রয়েছে। এখন তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ভিত্তিতে কনভিকশন ওয়ারেন্ট পাঠানোর জন্য নতুন করে ইন্টারপোলে নোটিশ আবেদনের ব্যবস্থা করা হবে। এ উদ্যোগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হচ্ছে, যাদের মাধ্যমে এটি ইন্টারপোলে যাবে। ইতোমধ্যে প্রসিকিউশন এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, “ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে প্রথম এমন কম্পেনসেশনের রায় হয়েছে। রায়ের সার্টিফাইড কপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গেলে তারা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।”
রায়ের কপি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে
১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা হওয়ায় এখন অফিসিয়াল কার্যক্রম সম্পন্ন করে রায়ের কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। গ্রেফতার থাকা আসামিরা এবং ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করলে পলাতকেরাও বিনামূল্যে রায়ের কপি পাবেন।
হাসিনার বিরুদ্ধে আরও তিন মামলা চলমান
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আরও তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে—
-
গুমের দুই মামলার ফরমাল চার্জ গ্রহণ করা হয়েছে এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আছে।
-
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়ানো হয়েছে আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত।
এ ছাড়া গত জুলাইয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
মৃত্যুদণ্ডের মামলা: প্রথম রায়
চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও কামালকে মৃত্যুদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেন ট্রাইব্যুনাল। রাজসাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তি দেওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এটি পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়।
গুমের মামলায় ২৮ জন আসামি
৮ অক্টোবর গুম, নির্যাতন ও হত্যাসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা, কামাল, সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে দুইটি ফরমাল চার্জ গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছেন। পরবর্তী শুনানি ২৩ নভেম্বর।
শাপলা চত্বর মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। এতে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, হাছান মাহমুদ, সালমান এফ রহমান, বেনজীর আহমেদসহ ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে ১২ জানুয়ারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পেলেন যারা
উৎপাদন কমানোর আগে ইরান দুই মাস পর্যন্ত তেল রপ্তানি বন্ধ রাখতে পারে, বলছেন বিশ্লেষকরা
গুলিবিদ্ধ সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ