হামাসকে বাদ রেখেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু’র গাজার জন্য নতুন একটি শান্তি পরিকল্পনা

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৪২ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু: ছবি সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজার জন্য নতুন একটি শান্তি পরিকল্পনায় একমত হওয়ার কথা যৌথ ভাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, হামাসকে এ শান্তি পরিকল্পনায় সম্মত হতে হবে।


ওই পরিকল্পনায় গাজায় অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ ও চুক্তি কার্যকরের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দুই ডজনের বেশি ইসরাইলি পণবন্দীদের লাশ ও জীবিত থাকা ২০ জনকে মুক্তি দিতে হবে। বিনিময়ে গাজা থেকে আটক হওয়া শত শত বন্দী মুক্তি পাবেন।

যুদ্ধবিরতি আলোচনার সাথে ঘনিষ্ঠ ফিলিস্তিনি একটি সূত্র জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজের এই ২০-দফা শান্তি প্রস্তাব হামাস কর্মকর্তাদের দেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজা শাসনে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না এবং কার্যত একইসাথে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের জন্য একটি দরজা উন্মুক্ত হবে।

যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনায় গাজার ভবিষ্যৎ শাসন কেমন হবে তার একটি রূপরেখাও দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘একটি টেকনোক্র্যাট, অরাজনৈতিক ফিলিস্তিনি কমিটি’ সাময়িকভাবে গাজা শাসন করবে। আর এর তদারকি হবে নতুন একটি আন্তর্জাতিক অন্তর্বর্তীকালীন সংস্থার মাধ্যমে। ট্রাম্প এর নাম দিয়েছেন বোর্ড অব পিস, যা তার নেতৃত্বেই হবে।

প্রস্তাবটি অনুসরণ করা হলে এর শুরুটাই হবে সামরিক অভিযান বন্ধের মাধ্যমে। প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, সেনা প্রত্যাহারের সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ স্থগিত অবস্থায় থাকবে। উভয়পক্ষ প্রস্তাবে সম্মত হলে অবিলম্বে গাজায় পূর্ণ মানবিক সহায়তা পাঠানো হবে।

এছাড়াও পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘গাজা পুনর্গঠন নিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনায়’ নজর দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইসরাইল গাজা দখল বা সংযুক্ত করবে না এবং ওই ভূখণ্ড থেকে তাদের বাহিনী সময়ের পরিক্রমায় প্রত্যাহার করবে।

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার টনি ব্লেয়ারও এ পরিকল্পনার অংশ হবেন। তিনি এর প্রশংসা করেছেন।

বিশ্বনেতাদের পজিটিভ ও স্বাগতসূচক প্রতিক্রিয়া:

  • অনেক আরব ও মধ্য-পূর্বের দেশ—যেমন সৌদি আরব, জর্ডান, ইজি্প্ট, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত—বিভিন্ন সূত্রে জানাচ্ছে তারা মার্কিন প্রস্তাবকে “স্বাগত” জানিয়েছে এবং চুক্তির চূড়ান্তকরণ ও বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্ল্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

  • যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই উদ্যোগকে “গভীরভাবে স্বাগত” বলেছেন এবং সব পক্ষকে এ চুক্তি কার্যকর করার পথে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

  • ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমমানুয়েল ম্যাক্রোন প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। 

  • তুর্কির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান এক মন্তব্যে বলেন তিনি মার্ক মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ উদ্যোগকে “এক ধরনের মধ্যস্থতাকারী” হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন। 

সমালোচনা, সন্দেহ ও প্রশ্ন

  • আবারও সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে যে এই পরিকল্পনায় হামাসকে ছাড়া আলোচনায় এগিয়ে যাওয়া কতটা বাস্তবসম্মত। গাজার অনেক বাসিন্দা ও বিশ্লেষক বলছেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হামাস ও ফিলিস্তিনি নেতা–শক্তিগুলোর অন্তর্ভুক্তি না থাকলে পরিকল্পনাটি কার্যকর হতে পারবে না।

  • ইসরেলের অনেকরক্ষণশীল (far-right) মনোভাবের নেতা ও মন্ত্রিসভা সদস্যরা কঠোর সমালোচনায় নামেন, কারণ তারা মনে করছেন এই পরিকল্পনাটিতে সেনা আঘাত ও ইস্যুগুলোর উপর পরিমিত রাজনীতি করা হয়েছে। 

  • গাজার রাজনৈতিক পরিবেশে টনি ব্লেয়ারকে অন্তর্ভুক্তি অনেকেই সমালোচনা করছেন—কিছু ফিলিস্তিনি নেতা ও বিশ্লেষক তাঁকে “যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ প্রাপ্ত” হিসেবে দেখেন এবং বলছেন তিনি গাজার শাসনে যুক্ত হলে তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে কিনা প্রশ্নবিদ্ধ। 

  • এই প্রস্তাবমালা হঠাৎই পরিবেশিত হওয়ায়, হামাসের মতে তারা আগে থেকেই প্রস্তাবের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। সে কারণেই তারা জানিয়েছেন, ডিমিলিটারাইজেশন (অস্ত্রবিহীনীকরণ) এবং শাসন থেকে একেবারে সরে যাওয়ার শর্ত তুলনামূলকভাবে কঠিন। 

ফিলিস্তিনি ও হামাসের প্রতিক্রিয়া:

  • ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (যা পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণে) মার্কিন প্রস্তাবকে “আন্তরিক” হিসেবে অভিহিত করেছে এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা প্রবেশের নিশ্চয়তা ও বন্দী মুক্তির প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। (আপনার প্রদত্ত বিবরণে ইতিমধ্যে এই বক্তব্য এসেছে।)

  • হামাসের পক্ষ থেকে এখনও স্পষ্ট সম্মতি পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে তারা জানাচ্ছে যে এমন কোনো চুক্তিতে নয় যেটি তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক ভূমিকা পুরোপুরি খাটো করে দেয়। 

     

 

প্রস্তাবটি যদি কার্যকর করার জন্য সেনা প্রত্যাহার, যুদ্ধবিরতিতে অগ্রাধিকার, বন্দী বিনিময় ও গাজার শাসন পুনরায় গঠন করতে হয়, তাহলে অনেক ক্রস-পক্ষ সমন্বয় ও আন্তর্জাতিক তদারকির প্রয়োজন হবে। যে কোনো টেকসই চুক্তির জন্য হামাসকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রায় অনিবার্য কিন্তু প্রস্তাবে বলা হয়েছে হামাসকে শাসন থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হবে, যা তাদের জন্য গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। যদি পরিকল্পনার কিছু শর্ত পূরণ না হয় বা পক্ষগুলোর মধ্যে বিশ্বাস সৃষ্টিতে ব্যর্থ হওয়া যায়, তাহলে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সুত্র: আল জাজিরা, বিবিসি।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com